বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে চীনের সহায়তা বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সাক্ষাতে দুইপক্ষ উভয় দেশের ক্রীড়া খাতের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রস্তাবিত স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে চীনের বিনিয়োগের পাশাপাশি ভলিবল, আর্চারি ও শুটিংয়ের মতো ইভেন্টগুলিতে দক্ষ চীনা কোচ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি সব ক্রীড়া ইভেন্টকে সমানভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া ভাতা এবং ডিজিটাল ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী চীনের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলকে বাংলাদেশে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। তিনি বাংলাদেশের উদীয়মান স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিতে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ক্রীড়া সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ক্রীড়া খাতের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ক্রীড়া উদ্যোগ ও খেলোয়াড়দের ভাতা কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং আশা প্রকাশ করেন যে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। রাষ্ট্রদূত প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। চীনের প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সমন্বয় বাংলাদেশের ক্রীড়া খাতকে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাস্তবায়িত হলে দেশের খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, নতুন ক্রীড়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় ক্রীড়া পর্যটন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্রীড়া খাতকে সকল ইভেন্টে সমানভাবে উন্নত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির প্রতি জোর দিচ্ছে। চীনের সাথে চলমান আলোচনা ও সম্ভাব্য সহযোগিতা এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।