জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার মধ্য দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ বিষয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তিনি সংসদে বলেন, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে, যা আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রস্তাব প্রস্তুত করে সংসদে উত্থাপন করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেয়ে থাকলেও ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশন পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে গেছে। বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর সাংবিধানিক ভিত্তি পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ৭ ও ৭৩ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ প্রদান করেন, যা সংবিধানসম্মত। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য এমন কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না।
এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকা উচিত। তিনি বলেন, আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারণ করলে কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি দল থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে এবং বিরোধী দল তা সমাধানমূলক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
ডা. শফিকুর রহমান সংসদে অভিযোগ করেন, অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে একমত হয়নি, বরং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবে সমর্থন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো অস্পষ্টতা তার বক্তব্যে ছিল না।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, জনগণের মতামত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপনের ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
বৃহৎ পরিপ্রেক্ষিতে, সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব এবং এর বৈধতা নিরীক্ষণ জাতীয় রাজনৈতিক ও আইনগত পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি ও বিরোধী পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত এমন কমিটি দেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।