1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাইবার আইন সংস্কারে আইনজীবীদের পরামর্শ নেবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী মাদকের সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদমন্ত্রীর বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম কমানো হয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পদ্মা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি অপসারণে কোনো ঝুঁকি নেই: রেলমন্ত্রী শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধে আইন প্রণয়নের আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর উপকূলীয় সুরক্ষা ও ডেল্টা অর্থনীতিতে ব্লু কার্বন অর্থায়ন জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা: চুয়েটের ওরিয়েন্টেশনে ভূমি প্রতিমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে গেল স্বজনরা, উদ্ধার করে দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ইরানে হামলার সময়সীমা পুনরায় স্থগিত, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন সময় নির্ধারণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৫ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা পুনরায় স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এ তথ্য জানান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি এই সময়সীমা বৃদ্ধি করেছেন এবং আলোচনার অগ্রগতি ইতিবাচক বলে দাবি করেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এতে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে প্রণালীটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ প্রণালী পুনরায় সচল করার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরে সেটি পাঁচ দিন বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ঘোষণায় দ্বিতীয় দফায় সময়সীমা আরও বাড়ানো হলো, যা পরিস্থিতির কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে।

তবে সম্ভাব্য এই হামলা পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না হয়।

আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বর্তমান সংকটের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইরান সংঘাত নিরসনে সমঝোতায় আগ্রহী। তবে তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত এবং অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আলোচনাও সামনে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হরমুজ প্রণালীকেন্দ্রিক এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026