বাংলাদেশ ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা’ বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইনডেমনিটি প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়েও পুনর্বিবেচনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বৈঠকে কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার প্রাথমিক কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সংসদে উত্থাপন এবং অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এরই অংশ হিসেবে গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন। বিধি অনুযায়ী, সংসদের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক অধ্যাদেশ একসঙ্গে পর্যালোচনার এই প্রক্রিয়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে করে সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর কার্যকারিতা, প্রয়োজনীয়তা এবং সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সংশোধন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে।
এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে গৃহীত নীতিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর সংসদীয় নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।