আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে বলে সতর্ক করেছে। খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
যুলফাগারি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাকের এরবিলে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের আশকেলন, তেল আবিব, হাইফা এবং গুশ দান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও যুলফাগারি উল্লেখ করেছেন।
আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আচরণ ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রম স্পষ্ট হয়ে গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলীয় শক্তি ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালি ব্লক করা বা কোনো হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইরানের এ ধরনের হুঁশিয়ারি প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি’র সাম্প্রতিক হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার একটি নতুন দিককে উন্মোচন করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের হুঁশিয়ারি এবং সামরিক কর্মকাণ্ড ইরানের ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং প্রতিরক্ষা নীতির অংশ।
উল্লেখযোগ্য যে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের মধ্যে একটি। ইরানের এই সতর্কতা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ এবং মূল্য স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও বাড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।