বাংলাদেশ ডেস্ক
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার এলাকায় গত শনিবার রাতে ঘটে যাওয়া বাস-ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় লেভেলক্রসিংয়ের দুই কর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) নামের এক নারী লাকসাম রেলওয়ে থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন লেভেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. হেলাল (৪১) ও মেহেদী হাসান (৩৩)। এ ছাড়া লেভেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল।
মো. হেলাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়ার বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্য আসামি মেহেদী হাসান বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেলক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার বাদী শেফালী আক্তার লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় নিহত সোহেল রানা তার বোনের ছেলে। সোহেল রানা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মালয়েশিয়াপ্রবাসী। প্রবাস থেকে ছুটিতে এসে তিনি ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে ঝিনাইদহের খালিশপুর বাস কাউন্টার থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসে করে লাকসামে বেড়াতে রওনা হন।
জানা যায়, ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও ৩ শিশু সহ মোট ১২ জন নিহত হন। এছাড়া অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হন। নিহতরা সবাই বাসের যাত্রী ছিলেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ঘটনা লেভেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানদের দায়িত্বহীনতার কারণে ঘটেছে। ঘটনায় তারা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, “পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। হেলাল ও মেহেদী হাসান পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ফলে ট্রেনটি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বাসটি টেনে নিয়ে যায়। এতে বাসের যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পুলিশ ও রেলওয়ে কর্মকর্তারা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যাতে লেভেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দূর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।