আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে ইরান ভারতের কাছে জব্দ তিনটি তেলবাহী জাহাজ মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, বিনিময়ে ভারতমুখী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রস্তাব রেখেছে তেহরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত নয়াদিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তিনটি জাহাজের মুক্তি ও উপসাগরীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভারত বা ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ও ইরান-সংশ্লিষ্ট সন্দেহে তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। মুম্বাই উপকূলের কাছে আটক হওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অবৈধ তেল বাণিজ্যের অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। জব্দ হওয়া জাহাজগুলোর নাম স্টেলার রুবি, অ্যাসফল্ট স্টার ও আল জাফজিয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি এগুলো আটক করা হয়।
ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, এই প্রণালির মাধ্যমে তাদের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালানো যাবে না। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ শর্তে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কারণে অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। তারা জাহাজকে কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে দেবেন না বলে জানিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কিছু জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে এই আলোচনার ফলাফল উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য ও সামরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।