জাতীয় ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জরুরি সেবা অব্যাহত রাখার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিকালে জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, জরুরি অস্ত্রোপচার (ইমার্জেন্সি ওটি), ল্যাবরেটরি, ব্লাড ব্যাংক, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করতে, ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে ছুটি পর্যায়ক্রমে প্রদানের সুযোগ রাখা যাবে।
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করতে পারবেন। ছুটিকালে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করা হবে। হাসপাতালের অন্তর্বিভাগীয় ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন বিভাগীয় কার্যক্রম তদারক করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি ল্যাব ও এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অন কল সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
ঈদের ছুটির আগে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুদ রাখতে হবে এবং ছুটিকালে তাৎক্ষণিক সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে স্টোর কিপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফকে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক কার্যকর রাখতে হবে। হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম জানানো এবং অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। ছুটির দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান নিজে ছুটি নিলে বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান করতে হবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
বহির্বিভাগ সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকেও রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখতে হবে। রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। রেফার্ড রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানেও সহযোগিতা করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে। এর মাধ্যমে ছুটির সময় রোগী সেবা ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।