জাতীয় ডেস্ক
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও তাদের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মসূচির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী কয়েক হাজার সেবককে মাসিক সম্মানীর আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সেবক।
প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম মাসিক ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্থ প্রদান করা হবে।
অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা করে সম্মানী বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, মন্দিরের পুরোহিত মাসিক ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। খ্রিস্টান গির্জার ক্ষেত্রে যাজক বা পালক ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা হিসেবে পাবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে তাদের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের আরও বেশি সংখ্যক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সেবকদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই সহায়তা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ধর্মীয় সেবকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।