আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলার জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে আল-সুদানি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। ফোনালাপের সময় তিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানি জোর দিয়ে বলেন, “ইরাক তার ভূখণ্ডকে কোনো পক্ষকে ইরানের ওপর আক্রমণের সূচনাস্থল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। ইরাককে লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাক তার ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান অবলম্বন করবে। বিশেষ করে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাকের এই অবস্থান তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের একটি কৌশলগত দেশ হিসেবে পরিচিত এবং দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে যে কোনো তৃতীয় পক্ষের হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আল-সুদানি সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে যে, ইরাক কোনো ধরনের বাহ্যিক সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হবে না এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এছাড়াও, ফোনালাপে দুই দেশের নেতারা পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-সুদানি ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার গুরুত্ব পুনরায় উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সুরক্ষা ও শান্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্প্রতি উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইরাকের ভূখণ্ডকে হামলার জন্য ব্যবহার না করার স্পষ্ট ঘোষণা আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ইরাকের এই নীতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে থাকার প্রতিশ্রুতির প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইরাকের এমন ধরণের স্পষ্ট অবস্থান অপরিহার্য।
সারসংক্ষেপে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরাকের ভূখণ্ড কোনো বাহ্যিক আক্রমণের জন্য ব্যবহার হবে না এবং যে কোনো ধরনের হামলা দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সমতুল্য হবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।