বাংলাদেশ ডেস্ক
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের আইনকে আরও কার্যকর ও কঠোর করতে তিনি জাতীয় সংসদে ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান আইন সংশোধনের মাধ্যমে তামাক ব্যবহারকে কঠোরভাবে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন অনুষ্ঠানে বলেন, “‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব থাকে। ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ শব্দ ব্যবহার করে আইন কার্যকর ও জনসাধারণের কাছে সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে আইনে পরিণত করার আশা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা থাকা সত্ত্বেও ধূমপান ও তামাকজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি চরম উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকের উপস্থাপনা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ এফসিটিসি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এছাড়া ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০৫’ পাস হয়, যা মন্ত্রী তার সংসদ সদস্য থাকার সময় প্রণীত হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, “আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রণীত প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ উপস্থাপিত হবে। এর মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অন্যতম। আমি আইনটির নামকরণে ‘প্রকাশ্যে ব্যবহার নিষেধ’ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেব। এটি আমার সংসদীয় এজেন্ডার শীর্ষে রয়েছে।”
আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি তামাকবিরোধী সংগঠন ‘আত্মা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-কে কার্যকর রূপরেখা বা গাইডলাইন তৈরির জন্য আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, “যদি সরকারকে প্রয়োগে সহায়তা করার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি থাকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তা সহজে বাস্তবায়ন করতে পারবে।”
আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জনমত গঠন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন একটি ‘ক্রিয়েটিভ ক্যাম্পেইন’ চালানোর। তিনি বলেন, “এটি জনমত তৈরিতে সহায়ক হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য প্রয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করবে।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তব্য রাখেন, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, এনটিভির হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, চর্চা ডট কম-এর সম্পাদক সোহরাব হোসেন এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। গোলটেবিল বৈঠকে তামাকবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।