অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশে প্রথম এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার দুপুরে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় খাল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে জনগণের দাবি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন এলাকায় কার্যকর করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত জলাশয় ও ছোট বড় নদ-নদীর খনন কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ধারাবাহিকতায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর খাল খননের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে খালগুলিতে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে, যা দেশের সব অঞ্চলের মানুষকে সহজে সেচ সুবিধা প্রদান করবে। খাল খননের ফলে ফসল চাষ ও উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে সমস্যাজনক জলাবদ্ধতা দূর হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন এবং জেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
মন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখনন কর্মসূচি দ্রুত গতি নিয়ে এগিয়ে চলবে। খাল খননের ফলে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে, যা সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, খাল খনন ও পুনঃখননের এই উদ্যোগ দেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত খালগুলোতে পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে এবং স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে খালগুলো দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।