বাংলাদেশ ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেন ও বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে বুধবার অনলাইনে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হওয়ার পর প্রথম আধাঘণ্টায় প্রায় ২০ লাখবার সার্ভারে প্রবেশের চেষ্টা হয় এবং এ সময়ের মধ্যেই ১১ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি চললেও যাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বুধবার পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ১১ হাজার ৪০০ টিকিট বিক্রি হয়। একই সময়ে প্রায় ২০ লাখবার সংশ্লিষ্ট সার্ভারে ভিজিট করা হয়, যার ফলে অনলাইনে চাপ তৈরি হয়। ওই দিন ১৪ মার্চের যাত্রার টিকিট ছাড়া হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারও দুই ধাপে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চল এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো কাউন্টারে ভিড় কমানো, কালোবাজারি প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
গত কয়েক বছর ধরে ঈদ মৌসুমে ট্রেনের টিকিট বিক্রির সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি নিয়মিতভাবে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর একযোগে প্রবেশের কারণে সার্ভারে চাপ সৃষ্টি হয়। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকার বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও উল্লেখযোগ্য ভিড় নেই। মঙ্গলবার বিক্রি শুরু হওয়ার পরপরই ১৭ ও ১৮ মার্চ রাতের বাসগুলোর অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যায় বলে পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। ১৫ ও ১৬ মার্চ রাতের বেশির ভাগ টিকিটও একইভাবে দ্রুত শেষ হয়েছে।
শ্যামলী রিং রোডে একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজান বলেন, প্রথম দিনেই অধিকাংশ রাতের বাসের টিকিট বিক্রি হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে দিনের বেলার টিকিটের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল।
কিছু যাত্রী ভাড়াবৃদ্ধির অভিযোগ তুলেছেন। ঠাকুরগাঁওগামী এক যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে টিকিট ৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, বর্তমানে তা ১ হাজার ৮০ টাকায় কিনতে হয়েছে। আরেক যাত্রী বলেন, দিনাজপুরগামী স্লিপার বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে থাকলেও এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাতের বাসগুলোর টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এ সময় অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রামে যান। এই সময় যাত্রীচাপ সামাল দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। ট্রেনের শতভাগ অনলাইন টিকিট বিক্রি ও নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ এই ব্যবস্থাপনার অংশ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে টিকিট সংগ্রহ ও ভ্রমণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করলে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।