অন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার পর তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে রবিবার (১ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই উপদেষ্টা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি তার সঙ্গে যোগাযোগে আছি। সব ঠিক আছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত একটি ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় ইরানের বিশেষ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পস (আইআরজিসি)-এর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা আহমাদিনেজাদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
উল্লেখ্য, আহমাদিনেজাদের নিজস্ব বাসভবন ওই ভবন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত। তবে বাসভবনটি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না এবং ভবনটি পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে।
আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এই খবরটি খণ্ডন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সাবেক প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ পরিসরের উপর হামলা এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বৃদ্ধি করতে পারে। ইরানি বিশেষ বাহিনী আইআরজিসি-র এই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা বহাল রয়েছে।
হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। এই ধরনের হামলা ইরান এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের দেহরক্ষী বাহিনীর ওপর লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক ঘটনার পর ইরানের সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আশ্বাস দিয়েছে যে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন।