আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার ফিলিস্তিন বিষয়ক নির্বাহী সভার সাইড লাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়ে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উভয় মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিদ্যমান অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জনসম্পৃক্ততা ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বিত অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে গত বছর প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ঢাকার নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও সুদৃঢ় হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সংবেদনশীল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশ নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত অবস্থান জোরদারের লক্ষ্যে জেদ্দায় অনুষ্ঠিত নির্বাহী সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়ই অংশ নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক সংলাপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদার হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে এ বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।