জাতীয় ডেস্ক
রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয় থেকে হেঁটে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান এবং ‘একুশে পদক–২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ০৪ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্বের পর সকাল ১০টা ৪৭ মিনিটে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে ৫ নম্বর গেট ব্যবহার করে হেঁটে অনুষ্ঠানের স্থান উদ্দেশ্যে রওনা হন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করেন। সরকার এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয়জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকার অনুযায়ী, অভিনয় ক্ষেত্রে মনোনীত হয়েছেন ফরিদা আক্তার ববিতা। চারুকলায় নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার। স্থাপত্যে সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। সংগীতে (মরণোত্তর) ভূষিত হয়েছেন কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। নৃত্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে সম্মানিত হয়েছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। সাংবাদিকতায় মনোনয়ন পেয়েছেন শফিক রেহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন তেজস হালদার জস। এছাড়া বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকেও পদক প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পদক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তিনি বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, ‘একুশে পদক’ ১৯৭৬ সাল থেকে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ভাষাসৈনিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। এটি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা।