1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নববর্ষ–১৪৩৩ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি শুরু বাংলাদেশি জাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালী পারাপত্তির অনুমতি দিয়েছে ইরান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পঞ্চম মেধাতালিকা প্রকাশ আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজহারিকে দেশে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করেছে মতলব উত্তরে মাজারের খাদেমকে কুপিয়ে জখম, হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ইরানি নার্সসহ সহিংস সংঘাতের খবর, সামরিক হামলার পরিসংখ্যান প্রকাশ রবার্ট প্যাটিনসনের নতুন সিনেমায় দাম্পত্য জীবনের অস্থিরতা সোনার বাজারে আবারও উত্থান, ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা পৌঁছাল

গাজা যুদ্ধকালে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল ইউএই: ফাঁস নথি

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় চলমান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার—এমন তথ্য উঠে এসেছে ফাঁস হওয়া একটি নথিতে। অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম এমিরেটলিকসের হাতে আসা ওই নথিতে ইউএইয়ের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার পরিসর বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া নথিটি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ইউএই সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের উদ্দেশে প্রস্তুত করা হয়। নথিটির লেখক হিসেবে হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান-এর নাম রয়েছে। তিনি আল-দাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি এবং ইউএই রেড ক্রিসেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নথির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইয়ের পূর্ববর্তী সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আলোকে সামরিক সহায়তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বলা হয়, দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে ইউএইয়ের নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় অবস্থিত ইউএইয়ের স্থাপনাগুলোর উল্লেখ রয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, বিশেষ করে ইয়েমেনে অবস্থিত দক্ষিণ লোহিত সাগর এলাকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও সক্ষমতায় সজ্জিত করা হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই সহায়তা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত চালু রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

ফাঁস হওয়া নথিতে সামরিক সহায়তার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এতে তথাকথিত ‘কমিউনিটি ইনিশিয়েটিভ’ বা সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামাজিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান এবং সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন ও ব্যবহারে ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিত সহযোগিতার কথা বলা হয়। নথিতে ইসরায়েলকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

নথিটির একটি অংশে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথা তুলে ধরে কাতারের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। একই সঙ্গে কুয়েতের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয় যে, তারা কাতারের অবস্থানকে সমর্থন করে ফিলিস্তিনে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। নথিতে এই অবস্থানকে ইউএইয়ের রাষ্ট্রীয় নীতি এবং কুয়েতের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

নথিতে ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, অতীতের বিভিন্ন উদাহরণ দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে এবং সংকট ও স্বাভাবিক সময়—উভয় ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সম্পর্ক ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির পর থেকে আরও গভীর হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ে এই চুক্তির আওতা সম্প্রসারণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সময়ে ইউএই সেনাবাহিনী আঞ্চলিক বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও নৌপথে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে। এ সময় ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউএই ইয়েমেন ও আফ্রিকার শিং অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ায়। পাশাপাশি সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকাতেও ইউএই সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়িয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এজ-এর মাধ্যমে ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধারণ এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগের কথাও নথিতে উঠে এসেছে। এসব তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে ইউএই–ইসরায়েল সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে আনছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026