1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রধানমন্ত্রীর একদিনের ১৬ ঘণ্টার দাপ্তরিক কার্যক্রম সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় পরিবর্তন: সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে অপসারণ, পেন্টাগনে অস্থিরতার মধ্যে নতুন বিতর্ক একনেকের প্রথম বৈঠক ৬ এপ্রিল, ১৭ প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি মন্ত্রী লিফটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে শৃঙ্খলা প্রদর্শন করলেন ইসরাইলের নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের নিন্দা করেছে বহুজাতিক দেশসমূহ বাহরাইনে ড্রোন হামলায় অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ব্যাহত, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করায় প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শনিবার

মস্কোতে প্রশাসনিক অসঙ্গতির অভিযোগে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া সাবেক সিডিএ যুক্তরাজ্যে আটক

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা সৃষ্টি ও সহকর্মীদের সঙ্গে অসংগত আচরণের অভিযোগে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হওয়া বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স–সিডিএ) মো. ফয়সাল আহমেদকে যুক্তরাজ্যের পুলিশ আটক করেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম শহরে তাকে আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতা, কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ ওঠে মো. ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ দিয়ে দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নির্দেশনার পরও তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেননি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, স্ট্যান্ড রিলিজের পর ফয়সাল আহমেদ রাশিয়া ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাজ্যে ফয়সাল আহমেদকে আটক করার বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তিনি নিশ্চিত করেন, মস্কো থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়ার পর তাকে দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি পালন করেননি।

সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে মো. ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, স্থানীয় কমিউনিটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থির আচরণের একাধিক অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও গত সপ্তাহে তাকে একবার আটক করা হয়েছিল, তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ঘটনায় অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তাকে পুনরায় আটক করা হয়।

কূটনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল কূটনীতিকের বিরুদ্ধে বিদেশে অবস্থানকালে এ ধরনের অভিযোগ ওঠা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কূটনীতিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আচরণগত অভিযোগ ওঠার পর তার দ্রুত দেশে ফিরে এসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করা একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি। সে ক্ষেত্রে স্ট্যান্ড রিলিজের পর দেশে না ফেরা কূটনৈতিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানকালে স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের আইনি কাঠামোর আওতায় নিষ্পত্তি হওয়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের আচরণ, দায়িত্ববোধ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026