বাংলাদেশ ডেস্ক
জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতজনিত বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবেলায় সরকার দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যদিবসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহকসেবা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে, তবে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বিকেল ৪টায় বন্ধ করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সময় পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য জ্বালানি সাশ্রয় করা এবং দেশের ব্যয় সংকোচনে ভূমিকা রাখা। একই সঙ্গে এটি সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এছাড়া দেশের মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমলও সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবাসমূহ যেমন কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকান এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর কার্যকারিতা মনিটর করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন ক্ষেত্রেও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা জারি করবে, যা রবিবার থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমাতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক কমানো হয়েছে, তবে পুরনো বাস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানো হবে। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি নতুন যানবাহন, কম্পিউটার সামগ্রী, বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয়ও অর্ধেক কমানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় সরকার মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে বিকল্প উৎসের মাধ্যমে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমাতে সরকারি ভর্তুকিও অব্যাহত রাখা হবে।
সরকারি সূত্রের মতে, অফিসের নতুন সময়সূচি দেশের কার্যকর প্রশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।