অর্থনীতি ডেস্ক
নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় এ বৈঠক শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান। বৈঠকে মোট ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপনের কথা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প একনেককে অবহিত করার জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতায় বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের অবকাঠামো, সামাজিক সেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ সক্ষমতা বৃদ্ধি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় জনসেবামূলক স্থাপনা উন্নয়ন করা হবে। একইসঙ্গে চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ গ্রহণ করা হয়েছে, যা ভূমি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেবে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন (চতুর্থ পর্ব) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জে একটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
নগর অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক নিবাস নির্মাণ এবং রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভারের সোনানিবাসে সৈনিকদের জন্য ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও আলোচনায় আসবে।
সড়ক যোগাযোগ খাতে একাধিক প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে বৈরাগীপুর (বরিশাল) থেকে টুমচর হয়ে বাউফল (পটুয়াখালী) পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প একনেক বৈঠকে অবহিত করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৩টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো অনুমোদন পেলে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।