রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ সেমিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজপ্রাসাদে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত সচিবালয়ে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় প্রশাসনের কাজের গতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই ধরনের সক্রিয়তা প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও দায়বদ্ধতা ও কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার ধরণে পরিবর্তনের ফলে মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রমে সরাসরি তদারকি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়মিতভাবে সকালেই সচিবালয়ে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছেন, যার ফলে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে এবং সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে।
সেমিনারে তিনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক কাঠামোর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রদানে গতি আনার জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত ১ হাজার ৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী, সহ-স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিদর্শকসহ প্রায় ২৫ হাজার কর্মীর পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতের কর্মীরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এবং সরকারি কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে পেশাগত নৈতিকতার গুরুত্ব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই আস্থা বজায় রাখতে চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. একেএম আজিজুল হক, শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ প্রফেসর ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিসিডিআরবি-এর নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ডা. তাহমিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা।