1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে মোহাম্মদপুরে ৯ জন গ্রেপ্তার

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাসিলা সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার রাত সোয়া ১২টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত পৃথক স্থানে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকার ২৫ বছর বয়সী যুবক শামসাদকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও জড়িত ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার পর বাসিলা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত অভিযান শুরু করেন। রাতভর অভিযানে সন্দেহভাজনদের অবস্থান নির্ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মোট নয়জনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় হচ্ছে— মো. সাজীব (২০), মো. রাজু (৩২), মো. সায়ন (১৮), মো. জাহিদ (২৫), মো. পৃথিবী (২৫), মো. সজীদ (২১), মো. সরফরাজ (২১), মো. কবির হোসেন (২২) ও মো. বশির (৫৩)। সেনা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তাদের কথোপকথন, ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম, ও ঘটনার আগ-পিছের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে অপহরণ ও নির্যাতনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শেরেবাংলা নগর আর্মি ক্যাম্পের ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা নিজেদের একটি সংগঠিত দল হিসেবে পরিচালিত করতেন এবং এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জেনেভা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একটি অপরাধী নেটওয়ার্কের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। শামসাদকে অপহরণ ও পরবর্তীতে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তাদের ভূমিকা তদন্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যরা জানান, অপহরণের ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার পরপরই ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তাকে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর শামসাদ নিরাপদ স্থানে যেতে পারলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং ঘটনার বিবরণ দিয়ে আইনের আশ্রয় নেন। সেনা কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল, সম্ভাব্য লুকানোর স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাফেরা শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানার কর্মকর্তারা জানান, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী অপহরণ, অবৈধ আটক, শারীরিক আঘাত ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ বা মামলা ছিল কি না, তারও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের অপরাধচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক উৎস, এবং এলাকায় অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শামসাদ রোববার মোহাম্মদপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, হুমকি এবং আর্থিক ক্ষতির বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। পুলিশ জানায়, মামলায় অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পৃথক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ধরনের সংগঠিত অপহরণ ও নির্যাতন চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হলে এলাকায় অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি ও দলীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের অভিযানকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তদন্তকারী দল আশা করছে, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026