আইন আদালত ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার চেষ্টার পৃথক দুই মামলায় আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। রবিবার দুপুরে ঢাকার পৃথক দুটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তার এই জামিন মঞ্জুর করেন। দুটি মামলাতেই জামিন পাওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী পলাশ রায়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি আসামির এক হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করার আদেশ দেন। অন্যদিকে, ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে ভাটারা থানায় দায়ের করা অপর মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) ২৬ নম্বর আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আইনজীবী পলাশ রায় জানান, আদালতের উভয় এজলাসেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি চলাকালে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনা ও আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জামিন প্রদান করেন। ফলে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জামিনের আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি পৌঁছানোর পর তার মুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং মারধরের অভিযোগ এনে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করেন তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা। ওই মামলায় গত ২৪ জুলাই মামুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসায় অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন প্রিন্স মামুন। সেখানে তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তার স্ত্রী বাদী হয়ে ভাটারা থানায় আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।
দ্বিতীয় মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াউর রহমান ২৫ জুলাই প্রিন্স মামুনকে আত্মহত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন জানান। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২৯ জুলাই আসামির উপস্থিতিতে তাকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুটি মামলাতেই জামিন পাওয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রাথমিক আইনি পদক্ষেপে সাময়িক স্বস্তি মিলল। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা উভয় মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করে আদালতে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে আইনি সূত্রগুলো জানিয়েছে।