সিলেট — জেলা প্রতিনিধি
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার (৪০) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত এই ত্রিধার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের (রিমান্ড) আবেদন জানান। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার গুরুত্ব ও তদন্তের গভীরতার বিষয়টি যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে। শুনানি শেষে আদালতের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায়নগরের তিন খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বাবুল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন, এতে অন্য কোনো চক্র বা সহযোগীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং ঘটনার পূর্বাপর পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতেই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যের কারণ উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এর আগে গত বুধবার সকালে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ বাড়িটির কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিষয়টি সিলেট মহানগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশের একাধিক বিশেষায়িত টিম, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত, আশপাশের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ঘটনার দিনই বিকেল ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কোনো শত্রুতা ছিল কি না অথবা ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় বাবুল মিয়াকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বর্বরোচিত ঘটনার চূড়ান্ত রহস্য দ্রুত উন্মোচন করা সম্ভব হবে। এছাড়া ঘটনার সময় বাসার মূল্যবান মালামাল বা অর্থ খোয়া গেছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। নগরীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে তা নিরসন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।