জাতীয় ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে এই দেশব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে ছাড়া এই পোনা মাছ বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সারা দেশের নদী ও খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, যার প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করবে স্থানীয় জনগণ ও দেশের মৎস্যজীবীরা। জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে জানান, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে গৃহীত খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি দেশব্যাপী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষি খাতে সেচ সুবিধার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়ে ভূ-উপরিভাগের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু খাল খনন করলেই চলবে না; এসব জলাশয়ের পানিকে বহুমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। কৃষিতে সেচ সুবিধার পাশাপাশি মাছ চাষের বিস্তার ঘটিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে শুরু হওয়া এই পোনা অবমুক্তকরণ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি নদ-নদী ও প্রধান জলাশয়ে সম্প্রসারিত করা হবে।
সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার অর্ধেক অংশের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী সমাজকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কোনো টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। তিনি অতীত সরকারের নারী শিক্ষার প্রসারসংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করে উল্লেখ করেন, নারীদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও নারীর আধুনিক শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নারী ও পুরুষের সমন্বিত অংশগ্রহণে উৎপাদনশীল খাতগুলোকে গতিশীল করাই সরকারের নীতি।
অনুষ্ঠানে সরকারের কৃষি, মৎস্য ও পল্লী উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত এই পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল ব্যবহার রোধে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মীর শাহে আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।