1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
কৃষকদের জন্য ধান ও পাট বীজসহ সার বিতরণ উদ্বোধন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়ছেন জোনায়েদ সাকি মাইকিংয়ের জেরে বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ, অস্বীকার ইউএনওর গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতনের তালিকা তৈরির উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের অগ্রাধিকার, তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত লক্ষ্মীপুরে ১২.৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব: স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল কিউবা সরকার হোলি উইকে হাজারেরও বেশি বন্দি মুক্তি দিয়েছে হায়দরাবাদে কবরস্থানে লুকানো ৪১৪টি গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ, ১০ জন আটক

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় লেবাননের হাসপাতালে কাছে বিস্ফোরণ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জ্বাইল এলাকায় একটি হাসপাতালের নিকটে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে হাসপাতালের কাছাকাছি একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি হামলা বেড়ে গেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, এসব হামলার লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও যোদ্ধারা। দেশটি বলছে, লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা অব্যাহত থাকায় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে তারা বাধ্য হয়েছে।

এক বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল নিরাপত্তা অভিযানের অজুহাতে লেবাননের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে এবং দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, “লেবাননের হুমকি বন্ধ না হলে ইসরায়েল আরও তীব্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার খবর পাওয়া যায়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। তবে এর পরও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্তত পাঁচটি অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং নিয়মিতভাবে বিমান ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সংঘাতের সূত্রপাত ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর। গাজা হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েল সীমান্তে রকেট হামলা শুরু করে, যার ফলে উত্তর ইসরায়েলের হাজারো বাসিন্দা নিরাপত্তার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে এবং পরবর্তীতে দুই মাসব্যাপী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। ওই হামলায় সংগঠনের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রাণ হারান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে সংগঠনটি নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার লেবাননের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে হিজবুল্লাহ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে, তারা মনে করে এটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ।

লেবানন সরকার জানিয়েছে, দেশজুড়ে অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দেশের সব অঞ্চলে বিস্তৃত করতে চাই।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যা লেবানন ও ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026