বাংলাদেশ ডেস্ক
অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো সচল থাকলে এ ধরনের ক্ষতি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং অতিরিক্ত আলুর সঠিক ব্যবস্থাপনায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই এলাকায় কানমোনা-হারাবতী খালের পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি মৌসুমে অকাল বৃষ্টির ফলে অনেক এলাকায় আলুর ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, মাঠের পানি দ্রুত অপসারণের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথগুলো সচল রাখা না গেলে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে স্থানীয় পর্যায়ে খাল পুনঃখনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ লাখ টন আলুর সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান। এ জন্য হিমাগার সুবিধা সম্প্রসারণ, বিকল্প বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইনের আধুনিকীকরণও প্রয়োজন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, কানমোনা-হারাবতী খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নাব্যতা হারিয়েছিল, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হতো এবং আশপাশের কৃষিজমি জলাবদ্ধতার শিকার হতো। পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, খালটির পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মোট ৭১ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অকাল বৃষ্টি বা অতিবৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।