আন্তর্জাতিক ডেস্ক
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ‘হোলি উইক’ বা ‘পবিত্র সপ্তাহ’ উপলক্ষে কিউবা সরকার দুই হাজারেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত কিউবার দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট ২ হাজার ১০ জন বন্দি এবার মুক্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি নাগরিক, নারী, তরুণ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী বন্দিরা। মুক্তির প্রক্রিয়ায় মূলত তাদের অপরাধের ধরন, কারাগারে আচরণ, দণ্ডের একটি বড় অংশ ভোগ করা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে। দূতাবাস উল্লেখ করেছে, এই পদক্ষেপ ‘মানবিক ও সার্বভৌম উদ্যোগের অংশ’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
কিউবায় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, দেশে এখনও শত শত রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন এবং সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও মামলা করার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এ সংস্থা দেশটির বন্দি মুক্তি সংক্রান্ত পদক্ষেপকে যথেষ্ট সীমিত ও নির্বাচিত হিসেবে দেখছে।
এ বছরের এই মুক্তি ঘোষণা কিউবা সরকারের দ্বিতীয় বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর আগে মার্চ মাসে ৫১ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ভ্যাটিকান সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ৫৫৩ জন বন্দিকে similarly মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউবার এই ধরনের মুক্তি পদক্ষেপগুলি সাধারণত আন্তর্জাতিক চাপ এবং মানবিক বিবেচনার প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ কিউবার সরকারের আন্তর্জাতিক চেহারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকায় মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা সীমিত থেকে যাচ্ছে।
মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। কিউবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা দণ্ডকাল শেষ হওয়ার পর সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে পারেন।