বাংলাদেশ ডেস্ক
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, অতীত সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনা চিহ্নিত করতে একটি তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পূর্ববর্তী সময়ের নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাবনা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত একটি বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে সাংবাদিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যেসব বাধা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি মৌলিক উপাদান। এ স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হয়। তাই অতীতে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জানান, এ তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংবাদিক প্রতিনিধি ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে, যাতে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা যায়। তালিকা তৈরির পর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যমে পেশাগত পরিবেশ উন্নত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন পাবনা বইমেলা উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।