সারাদেশ ডেস্ক
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নে ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সি-খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কাফিলাতলি বাজার এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি কোদাল দিয়ে মাটি কেটে প্রকল্পের কাজের সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে গৃহীত খাল খনন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারত। বর্তমান পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের সময় অনেক স্থানে খালের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। খালের ভেতরে দোকানপাট ও বসতবাড়ি নির্মাণ, পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে বর্জ্য ফেলার কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাফিলাতলি বাজার থেকে হামছাদী এলাকা হয়ে রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত সি-খালটি সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সংস্কার না হওয়ায় খালটির বিভিন্ন অংশে পলি জমে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং বর্ষা মৌসুমে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে কৃষিকাজ, বিশেষ করে আমন ও বোরো মৌসুমে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটে এবং স্থানীয় জনগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
পুনঃখনন প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন হলে সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়ন এবং রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নসহ মোট চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। খালটি পুনরুদ্ধার হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটির নাব্যতা সংকট এবং অপরিকল্পিত দখলের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করছেন।
পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্তকরণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।