জনস্বার্থ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যকসায়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু বলেন – ভূমিহীন হলে পুলিশের চাকরি করা যাবে না—এ রকম একটা আইন আছে, সেটাই তো জানতাম না। মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েও ভূমিহীন বলে বরিশালের আসপিয়া চাকরি পাবে না, এটা হতে পারে না। হতে দেওয়া যায় না। প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তি গত তহবিল অথবা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে আসপিয়ার চাকুরির ব্যবস্থা করা হোক । বরিশালের সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেছেন আসপিয়া। ১৫ বছর ধরে উপজেলার খুন্না-গোবিন্দপুর গ্রামের একজনের জমিতে আশ্রিত হিসেবে থাকছেন তার পরিবার। আসপিয়ার বাবা সফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। অসহায়, গরীব মেয়েটি কোনো তথ্য গোপন করেনি। কারন তার বাবা মারা যাওয়ার পর তারা ভোলার পৈতৃকভূমি ছেড়ে অন্য জেলায় চলে যায়। ভোলাতে তাদের কোনো ভূমি নেই সেটা সম্ভবত নদী ভাঙনের কারনে। তার বাবারও ভূসম্পত্তি ছিলো না। তার বাবাও হয়ত ভাসমান বসতি করতেন। সেই ক্ষেত্রে মেয়েটির জমি না থাকা কোনো অন্যায় না। যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী দেশের ভূমির মালিক জনগণ, সেই হিসেবে পুলিশের বিদ্যমান বিধানটি সংবিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
পরিবারে তারা তিন বোন, এক ভাই ও মা।
পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাচ্ছেন আসপিয়া ইসলাম—এই খবরে তার পরিবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল।
হঠাৎ জানা গেল, সব ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরিটা হচ্ছে না তার।
এ বিষয়ে ডিআইজি মহোদয় জানান, নিজেদের জমি না থাকলে চাকরি দেওয়ার আইন নেই। এরপর ভাঙা মন নিয়ে দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পুলিশ লাইন্সের সামনে বসে থাকেন আসপিয়া।
আসপিয়া শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষাও উত্তীর্ণ হন।
মৌখিক পরীক্ষায় পঞ্চম হন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন তিনি।
চূড়ান্ত নিয়োগের আগে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আসপিয়া ও তার পরিবারকে ‘ভূমিহীন’ উল্লেখ করা হলে তার চাকরি হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আসপিয়া বলেন, “আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলাম। এর মধ্যে হিজলা থানার ওসি জানান, চাকরি পেতে হলে নিজেদের জমিসহ ঘর দেখাতে হবে। জমি নেই বলে আমার চাকরি হবে না—এটা বিশ্বাস হচ্ছিল না।’
এই খবরটি আজকে বেশ আলোড়ন তুলেছে। আমাদের সবাইকে ই নাড়া দিয়েছে।
যেই মেয়েটি আসপিয়ার ভূসম্পত্তি না থাকায় চাকরি হয়নি, সেটা পুলিশের কোনো ভুল না। কারন পুলিশে কনস্টেবল পদে ঢুকতে বৈধ পিতা মাতার ভূসম্পত্তি থাকার একটি বিধান রয়েছে। সেই পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযাযী মেয়েটির পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি না দিয়ে ভুল করেনি। কারন এসপি বা ডিআইজি একটা বিধান বাতিলের এখতিয়ার রাখে না।
বিষয়টি যেহেতু আলোচনায় এসেছে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজিপির দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে মেয়েটিকে পুলিশের চাকরির ব্যবস্থা করা উচিত। একই সাথে ভূসম্পত্তি না থাকলে চাকরি পাবে না, পুলিশের এই বিধানটি বাতিল করাও দরকার৷
সংবিধান ও প্রচলিত আইনের বাহিরে কোনো নীতিমালা একটি সভ্য দেশে এক মিনিটও চলতে পারে না। কারন ভূসম্পত্তি নিয়ে পুলিশের বিদ্যমান পদ্ধতি সংবিধানের মৌলিক অধিকার পরিপন্থী।
সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের চাকরি পাওয়ার সমান সুযোগ রয়েছে। তাই চাকরি বঞ্চিত আসপিয়া হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হতে পারবেন।
আসপিয়ার চাকরির মধ্য দিয়ে অচল সিস্টেমের সমাপ্তি ঘটুক।