গোল করা যেন হালান্ডের কাছে অভ্যাসের চেয়েও বেশি কিছু, এখন সেটি প্রায় অবধারিত এক ঘটনা। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে যেমন থামার নাম নেই, নরওয়ের হয়েও একই ছন্দে ছুটছেন এই স্ট্রাইকার। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে জিতিয়েছেন হালান্ড। আর তাতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫৬ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৬৪।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে নরওয়ের বিদায়ের পর জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন হালান্ড। তবে দীর্ঘ বিরতির কোনো ছাপ তার পারফরম্যান্সে দেখা যায়নি। বরং ডেনমার্কের বিপক্ষে দুই গোল করে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, গোলের সামনে তাকে থামানো কতটা কঠিন।
অসলোতে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল নরওয়ে। ৩২ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অস্কার বব। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগরের কাছ থেকে বল পেয়ে দূরের পোস্টের কোণ ঘেঁষে দারুণ এক শটে ডেনমার্কের জালে বল পাঠান ফুলহামের এই ফরোয়ার্ড।
এর মাত্র চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। আন্তোনিও নুসার দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি করা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই শক্তিশালী শটে ডেনমার্কের গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনকে পরাস্ত করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবশ্য ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি ডেনমার্ক। ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ব্যবধান কমান মিকেল ডামসগার্ড। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিট পেরোতেই সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্ট্রাইকার রাসমুস হয়লুনদের হেডে সমতায় ফেরে ডেনমার্ক।
ম্যাচ তখন দুই দলের জন্যই সমান সম্ভাবনার। ঠিক সেই মুহূর্তেই আবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে ওঠেন হালান্ড। ৭৪ মিনিটে কর্নার থেকে সাজানো আক্রমণে বক্সের ভেতর বল পেয়ে শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। নরওয়ে ফিরে পায় ৩-২ ব্যবধানের লিড। শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি ডেনমার্ক।
এই দুই গোলের সুবাদে নরওয়ের হয়ে হালান্ডের শেষ ১৬ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ১৫টিতেই গোল করার কীর্তি হলো। এই সময়ে তার গোল ২৯টি। কেবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই গোল পাননি তিনি।
আরও অবাক করার মতো তথ্য, নরওয়ের হয়ে নিজের শেষ ১০ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচের আটটিতেই একাধিক গোল করেছেন হালান্ড। ৫৬ ম্যাচে তার গোল ৬৪টি, সঙ্গে আছে সাতটি অ্যাসিস্ট।
নেশনস লিগেও গোলের দিক থেকে বাকিদের ছাড়িয়ে আরও দূরে এগিয়ে গেলেন হালান্ড। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর গোল এখন ২১টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫টি করে গোল করেছেন সার্বিয়ার আলেকসান্ডার মিত্রোভিচ ও পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তাঁদের চেয়ে ছয় গোল এগিয়ে হালান্ড।
নেশনস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এরপর আছেন কসোভোর ভেদাত মুরিকি ১৪, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু ১৩, সুইডেনের ভিক্টর ইয়োকেরেস ১০ এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এদিন জেকো, ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লুক্সেমবার্গের দানেল সিনানি ৯ গোল করে।