ইসলামোফোবিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ঠেকাতে, বিশেষ করে পাকিস্তানের আশপাশের দেশগুলোতে, কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। শাহবাজের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে শাহবাজ জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাকিস্তানের “তাৎক্ষণিক প্রতিবেশী অঞ্চলে বিশেষ করে ইসলামোফোবিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা” সম্পর্কে অবহিত করেন। এ প্রবণতা ঠেকাতে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা ও পদক্ষেপ জোরদারের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ১৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন শাহবাজ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বহুপাক্ষিকতাবাদ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতি পাকিস্তানের দৃঢ় সমর্থনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
দুই মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের শেষ দিকে পদ ছাড়তে যাওয়া গুতেরেসের ভূমিকারও প্রশংসা করেন শাহবাজ। মানবতার কল্যাণে জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা সমুন্নত রাখায় গুতেরেসের “নীতিনিষ্ঠ ভূমিকার” প্রশংসা করেন তিনি।
শাহবাজের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গুতেরেস জাতিসংঘে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও শক্তিশালী অবস্থান, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় দেশটির অবদান এবং আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।