আইন আদালত ডেস্ক
দেশের আইনি সেবা খাতের মানোন্নয়ন এবং পেশাদারিত্ব বাড়াতে অনতিবিলম্বে আইনজীবীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন ও সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। বর্তমান সরকার এই অবস্থার পরিবর্তনে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য পেশায় প্রবেশকারী নতুন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উচ্চ আদালতে কর্মরত আইনজীবীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার আইনজীবী নিবন্ধিত আছেন। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে প্রকৃত মানসম্মত ও দক্ষ আইনজীবী কতজন, তা নির্ধারণ করা বা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন, যা বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি বাস্তব ও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ।
আইন পেশার মূল আদর্শ তুলে ধরে মন্ত্রী নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধুমাত্র অর্থের পেছনে ছোটা এই মহৎ পেশার লক্ষ্য হতে পারে না। আইনজীবী হয়ে সবকিছুকে কেবল অর্থের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। আর্থিক অর্জনের চেয়ে বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা আইনজীবীদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। তিনি নবীনদের বস্তুগত মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আইনি কাঠামোর সঠিক প্রয়োগ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির পেছনে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি একটি অন্যতম অন্তরায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মামলার আধিক্য এবং আইনি জটিলতা নিরসনে আইনজীবীদের মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। যুগোপযোগী ও মানসম্মত আইনি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে দেশের আইনি অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আইনজীবীদের পেশাগত মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।