রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় বহন করার রহস্যজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ভুয়া হওয়ায় তদন্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যাতায়াত করতে দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক মাঝখানে বসা এক তরুণীকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন। ওই তরুণীর পা দুটি জুতোহীন অবস্থায় অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলে ছিল। এক পর্যায়ে প্রত্যক্ষদর্শীর সন্দেহ হয় যে তরুণীটি মৃত কিংবা চেতনানাশক কিছু খেয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো মানুষের শরীর এভাবে নিথর থাকতে পারে না। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করার চেষ্টা করেন, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ স্থাপন করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের ছবি ও বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে প্রশ্ন ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত মোটরসাইকেলটির (ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪) রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মালিকের ঠিকানা কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর। তবে রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরের একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২, যা একজন শোরুম মালিকের। ওই শোরুম মালিক দাবি করেছেন যে মোটরসাইকেলটি তার প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্রি করা হয়নি এবং তার নম্বর কীভাবে সেখানে যুক্ত হলো তা তাঁর অজানা। এছাড়া দ্বিতীয় নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। নম্বর ও ঠিকানা ভুয়া হওয়ায় মালিকের প্রকৃত পরিচয় উদঘাটনে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্ট করে দাবি করা হয়, তরুণীটি উত্তরার একটি বারে অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে ওই দাবির পক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ বা সত্যতা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটির গতিপথ এবং এর আরোহীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত অসংগতি দূর করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।