আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বজ্রবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিটিওরোলজি (এনসিএম)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত দৈনন্দিন আবহাওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা, মক্কা এবং মদিনার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী ধরনের বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি এবং ধূলিঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মক্কা অঞ্চলের তায়েফ, আল কামিল, আদহাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
মদিনা অঞ্চলের আল আইস, আল মাহদ, বদর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বলবৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাবিগ, জেদ্দা, আল খুরমাহ এবং মক্কার আশপাশের এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত ও ধূলিঝড়ের সম্ভাবনায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নর্দার্ন বর্ডারস, জাজান, ইস্টার্ন প্রভিন্স এবং রিয়াদ অঞ্চলের দক্ষিণাংশেও দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় রাতের শেষভাগ থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যার ফলে দৃষ্টিসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি সৌদির অধিকাংশ অঞ্চলে তীব্র গরম অব্যাহত রয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মদিনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ ছাড়া দাম্মামে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি এবং রাজধানী রিয়াদ ও বুরাইদাহতে তা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড হতে পারে।
চলমান এই আবহাওয়া পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা এড়াতে ওয়াদি বা উপত্যকা এবং পাহাড়ি ঢলপ্রবণ অঞ্চলসমূহ এড়িয়ে চলার জন্য কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়মিত বুলেটিনের মাধ্যমে সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করছে।