বাংলাদেশ ডেস্ক
বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারী এবং ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারাকে সমর্থনকারী গণমাধ্যমগুলোকে সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সরকারের ছয় মাসের বিশেষ অর্জন নিয়ে তথ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় যারা ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট বা প্রমোট করে, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার ও বয়কট করা ছাড়া সরকারের সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাইরেও জনগণের করণীয় রয়েছে। যারা মুক্ত বাংলাদেশ এবং নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার। বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের সকল ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার ওপর জোর দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। তবে জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের বিভিন্ন অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি রয়েছে সরকারের। এছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া ও স্ফীত প্রচারসংখ্যা বা সার্কুলেশন বন্ধের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। কম পত্রিকা ছাপিয়ে ভুয়া প্রচারসংখ্যা দেখানোর অসত্য প্রক্রিয়া রোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা সকলের রয়েছে। সরকারের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে জনগণের প্রকৃত মতামত তুলে ধরাই সুস্থ গণতন্ত্রের মূল শর্ত। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সরকারি অন্যান্য মাধ্যমে এখন থেকে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর মতামত ও সংবাদ প্রচারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের সহায়তার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এক কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাপ্তাহিক এই ব্রিফিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। বর্তমান সরকারের মেয়াদের এই প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতের সংস্কার কার্যক্রম, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং বিগত সময়ের অনিয়ম দূর করার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।