রাজধানী ডেস্ক
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জে খোয়াই নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ফলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ এবং হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী। প্রতিনিধি দলটি নদীভাঙনের কবলে পড়া এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙন রোধে তাত্ক্ষণিক করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গণমাধ্যম ও স্থানীয়বাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গত মানুষের দুর্দশা লাঘবে এবং খোয়াই নদীর ভাঙন থেকে অঞ্চলটিকে বাঁচাতে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার লক্ষ্যে যথাযথ প্রকল্প দ্রুত গ্রহণ করা হবে। আপাতত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙন রোধ ও বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা হবে, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদ এবং হবিগঞ্জ শহরকে যেকোনো উপায়ে প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই এসব প্রকল্পের মূল কাজ বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খোয়াই নদীর অববাহিকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন কাজের মাধ্যমে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যার চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো সম্ভব হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানসহ নানা ফসলি জমি এবং মাছের ঘের। আকস্মিক এই বন্যায় দুর্গত মানুষের মাঝে তীব্র খাবার পানির সংকট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ত্রাণ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীভাঙন রোধে প্রতিমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের পর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।