অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ঋণপত্র বা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)-র পাশাপাশি এখন থেকে কোনো ধরনের মূল্যসীমা ছাড়াই কেবল ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকরা। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা, প্রবাসীদের শিল্পে বিনিয়োগের জন্য আমদানি সুবিধা প্রদান এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ করে নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ জারি করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ মিলবে, যা এতদিন ১৬৫ সিসির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া প্রবাসীদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়াও অনেক সহজ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১-২০২৪ মেয়াদের আমদানি নীতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো নীতি কার্যকর ছিল। নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নমনীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের নীতিতে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের এলসি ছাড়া নির্দিষ্ট বার্ষিক মূল্যসীমার মধ্যে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও নতুন নীতিতে সেই আর্থিক সীমা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের মাধ্যমে সরাসরি আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন এই নীতির অন্যতম প্রধান দিক হলো এলসির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি সহজ করা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ থাকায় আমদানিকারক ও বিদেশি সরবরাহকারীর মধ্যকার সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তি উৎসাহিত হবে। তবে ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লেনদেন বাড়ার কারণে পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং ওভার বা আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে তদারকি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নীতিমালায় ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং পুনঃরপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞা যুক্ত করে তাদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশে প্রবাসী বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা মূল্যে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগ প্রসারিত করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এই নীতিসহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া এইচএস কোড ও পণ্যের বর্ণনার অসামঞ্জস্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়ায় কাস্টমস পর্যায়ে আমদানিকারকদের দীর্ঘদিনের জটিলতা ও বিলম্ব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।