বাংলাদেশ ডেস্ক
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বর্তমান প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা ও প্রস্তুতি সম্পর্কিত সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে সরকার। নির্বাচন পরিচালনায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় নির্বাহ এবং বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সীমা বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট করে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ, তফসিল ঘোষণা এবং মাঠপর্যায়ে ভোটগ্রহণ আয়োজনের পুরো এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের। সরকার কেবল ইসিকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে এবং বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও সার্বিক প্রস্তুতি গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গতিশীল করার ক্ষেত্রে এই নির্বাচনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে আগাম অর্থ বরাদ্দ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার এই উদ্যোগ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতিই মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।