রাজধানী ডেস্ক
ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ডেনমার্কের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান বিক্রস মোলারের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত ডেনমার্কের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এই প্রকল্পে ডেনমার্ক সরকার মোট সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং তিন হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের এই সহযোগিতা সরকারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের বিশুদ্ধ পানির সংকটের চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে। পাশাপাশি বড় অংকের অনুদান ও সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার ফলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না।
মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অংশীদার। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও খাতে ডেনমার্কের বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এই সহযোগিতার ফলে ঢাকা শহরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।