রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডাচ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স) জাওয়াদ আজাউই এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার লুবাইন চৌধুরী মাসুম। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়।
আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ়করণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নেদারল্যান্ডসের অব্যাহত সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ডাচ সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা এবং দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
অন্যদিকে, ডাচ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অভিযাত্রা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও গঠনমূলক আলোচনা অপরিহার্য বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় নেতা নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতকে তার বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মরণে অঙ্কিত বিভিন্ন গ্রাফিতি ঘুরে দেখান। এ সময় আন্দোলনের পটভূমি এবং এর আদর্শিক তাৎপর্য রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরা হয়।
উক্ত পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।