রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে মোট ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময় অপরাধের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৫৩টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাদক কারবার রোধ এবং অবৈধ মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধ বিভাগে চালানো এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যা বিন্যস্ত রয়েছে এভাবে—রমনা বিভাগে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগে ৪০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৮ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭১ জন, মিরপুর বিভাগে ১৩৬ জন, গুলশান বিভাগে ৫৭ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৩২ জন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১০ জনকে এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযান পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিপুল পরিমাণ চোরাই মাল, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৪টি মোটরসাইকেল, ৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৫টি ভুয়া নম্বর প্লেট, ১ হাজার ২৬৬ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২টি মনিটর, ৮টি মোবাইল ফোন, চুরির কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ডালি, ৮টি চাবি, একটি কাটার কাঁচি এবং একটি ছিটকিনি।
বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযانে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২৬ কেজি ১৬০ গ্রাম গাঁজা, ৭ হাজার ২১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন এবং ৪৪০ বোতল এসকাফ সিরাপ বা ফেনসিডিল। রাজধানীজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধ ও যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের নিয়মিত অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের পর আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।