রাজধানী ডেস্ক
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে ১৮ বছর আগের একটি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের মে মাসে দায়ের করা ওই মামলায় আদালত তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।
গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আদালত বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে আদালত থেকে পরোয়ানা জারির পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী বাদী হয়ে এই প্রতারণার মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা সিদ্দিক মোশাররফ হোসেনকে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং তা বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ৮০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বনানীর একটি অফিসে বাদীর মাধ্যমে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করা হয়, যা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছিল। উভয়পক্ষের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা এবং ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময়েও তা হস্তান্তর করা হয়নি। পরবর্তীতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে ওই চেক জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এই ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ হিসেবে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এই রায় দেন।
আইনজীবীদের মতে, আদালতের রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের অংশ হিসেবে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।