অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটির কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত ও গমনাগমন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিজরি ১৪৪৮ সনের ১২ই রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে এই সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, সরকারি ছুটির কারণে বুধবার বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ সব ধরনের দাপ্তরিক ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এ সময়ে বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকৃত পণ্য খালাস শেষে খালি হওয়া ভারতীয় ট্রাকগুলো পুনরায় ভারতে ফিরে যেতে পারছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, সরকারি ছুটির বিষয়টি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছুটি শেষে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উভয় দেশের মধ্যে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে আমদানি-রপ্তানি, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম সচল হবে।
বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দর দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে চারশ থেকে সাড়ে চারশ পণ্যবাহী ট্রাক এই বন্দরে প্রবেশ করে। এসব আমদানিকৃত পণ্যের একটি বড় অংশজুড়ে থাকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী শিল্প খাত তৈরি পোশাকের (গার্মেন্টস) বিভিন্ন কাঁচামাল। শুধু আমদানি কার্যক্রম থেকেই সরকার এই বন্দর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। এক দিনের এই ছুটির ফলে সাময়িকভাবে রাজস্ব আহরণ ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিরতি ঘটলেও, পরদিন থেকেই তা স্বাভাবিক ধারায় ফিরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারি ছুটির দিনেও বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াত করছেন, তারা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ইমিগ্রেশন পারাপার হতে পারছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ডিডি) রুহুল আমিন জানান, ছুটির দিনটিতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে যাতে বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নির্দিষ্ট ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে।