রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫০১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে ডিএমপির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অপরাধ দমনের লক্ষ্যে বিভিন্ন থানায় মোট ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীজুড়ে অপরাধের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৭০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৩ জন, গুলশান বিভাগে ৪২ জন, রমনা বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগ বিভাগে ২৩ জন এবং ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) চারজনকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য এবং অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, ৩২ হাজার ১৬১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ কেজি ৭১১ গ্রাম গাঁজা এবং দুই গ্রাম হেরোইন। এছাড়া অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহার ও পরিবহনের অভিযোগে ১৭টি মোবাইল ফোন, একটি প্রাইভেটকার ও একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযানে এক ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে মাদকের বিস্তার রোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সাঁড়াশি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের চালান ও অবৈধ অস্ত্রের উৎস সন্ধানে এবং এর নেপথ্যে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাজধানীজুড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের হার কমাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।