অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার এবং দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পাশাপাশি একটি সেতু নির্মাণকাজে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে অনুমোদিত সার, এলএনজি ও অবকাঠামো খাতের মোট ব্যয় নির্বাহ করা হবে সরকারি তহবিল থেকে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সার ও এলএনজি আমদানিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৬৯৫ কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত সার ক্রয়ের তালিকায় রয়েছে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া, এক লাখ ১৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি), এক লাখ ২০ হাজার টন ডি-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি)।
এর মধ্যে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির জন্য ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে ১৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অবশিষ্ট সার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস ও চুক্তিভিত্তিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ক্রয়ের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
কৃষিখাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই পর্যাপ্ত বাফার স্টক গড়ে তুলতে এই আগাম ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে এসব সার সংগ্রহের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সার ক্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি খাতের আমদানির অংশ হিসেবে উচ্চ মূল্যে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবও এই বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দামে এই এলএনজি আমদানির ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বৈঠকে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে মুরাই খালের ওপর ভেল্লাপাড়া সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই সেতুটির নির্মাণকাজে অতিরিক্ত সাত কোটি আট লাখ ৪৬ হাজার ৮০৮ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়, যা নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে।