মহানগর ডেস্ক
রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকার একটি বাসা থেকে নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের (৭১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে গ্রিন রোডের ওই আবাসিক ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গ্রিন রোডের নিজ বাসার একটি কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ধীরেন্দ্র কুমার রায়কে দেখতে পান তার পরিবারের সদস্যরা। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে কলাবাগান থানা পুলিশ সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতাল থেকে মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘটনার সময় ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের স্ত্রী দীপালী রায়, যিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা, কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন তাদের মেয়ে। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তিনি তার বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায় দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে নটর ডেম কলেজের মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন এবং তার আকস্মিক ও অস্বাভাবিক এই মৃত্যুতে এলাকায় ও শিক্ষকসমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা বা নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ পরিবার ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করছে এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।