জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আজ জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। তবে বর্তমান সংসদের সদস্য না হওয়ায় প্রার্থী হয়েও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কিংবা ভোট গ্রহণের সময় সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না অলি আহমদ।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এই নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি শূন্য থাকায় সংসদের বিভক্তি নম্বর অনুযায়ী এই ৩৪৯ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়, যার মধ্যে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যও রয়েছেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোট দিতে পারছেন না। এ বিষয়ে তিনি স্পিকার বরাবর আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে একজন প্রার্থীকে ন্যূনতম ১৭৫টি ভোট পেতে হবে। সংসদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭ জন। এছাড়া দলটির রাজনৈতিক মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অনুকূলে সংসদে রয়েছেন ৯০ জন সদস্য।
ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট প্রদান করবেন। ব্যালট পেপার গ্রহণের পূর্বে সদস্যরা এর মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন এবং মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং তাঁদের জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বর্তমানে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্বের পাশাপাশি সামগ্রিক নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা ও প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার প্রেক্ষিতে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সে বছরই প্রথম সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর অনুষ্ঠিত পরবর্তী সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। ফলে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর আবারও সংসদীয় ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদ পূরণ হতে যাচ্ছে।