রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীর কাফরুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আমবিয়া বেগম (৫৫) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আমবিয়া বেগম ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং মৃত আবুল হাসানের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর কাফরুল থানাধীন বাগানবাড়ি বস্তি এলাকায় ছেলের সাথে বসবাস করছিলেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে বাসা থেকে স্থানীয় বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আমবিয়া বেগম। পথিমধ্যে কাফরুল এলাকায় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন তাঁকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পথচারী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হলেও দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি বর্তমানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কাফরুল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
কাফরুল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং যে গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে সেটিকে শনাক্তের জন্য আশপাশের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের কাজ শুরু হয়েছে। ঘাতক গাড়ি ও চালককে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত গতি এবং পথচারীদের অসতর্ক পারাপারের কারণে নিয়মিতভাবে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা ও বাজারের সংযোগ সড়কগুলোতে কার্যকর ট্রাফিক নজরদারি না থাকায় পথচারীরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা দ্রুততম সময়ে ঘাতক চালককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।